
সাকিব আল হাসান রুবেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃনমূল পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন। পাশাপাশি জামায়াত ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও তৎপরতা বাড়িয়েছে। বিগত বছর গুলোতে বিএনপি-জামায়াতের কার্যালয় গুলোতে নীরবতা থাকলেও এখন খুবই জমজমাট। তবে নতুন দল নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) টাঙ্গাইল-৫ (সদর)আসনে এখন পর্যন্ত কোন কার্যক্রম করতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জানান, নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নিয়ে দ্বিধা কেটে যাওয়ায় সারাদেশের মতো টাঙ্গাইল-৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারনায় আগের চেয়ে গতি বাড়িয়েছেন। সব প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে বেশ তৎপর। এলাকায় নানা কর্মসুচি পালন করছেন তারা। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসুচিতেও অংশ নিচ্ছেন। নিজ নিজ দলের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলটির ৩১ দফার প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে তাদের অনুসারীরাও সরব সামাজিক মাধ্যমে। অন্যদিকে একক প্রার্থী নিয়ে চমক দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। নিরবিচ্ছিন্ন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।
আবার অনেকেই বলছেন, ইসলামীপন্থীদের জোট হলে ভোটের হিসাব-নিকাশ জটিল হতে পারে। তবে গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ (এবি পার্টি) ইসলামী আন্দোলন ও অন্য দলের চোখে পড়ার মতো তৎপরতা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল-৫ আসন সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক হলেও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে অন্তত তিনজন। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন এবং টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। এদিকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর)আসনটি রাজনৈতিকভাবে বরাবরই গুরুত্বপুর্ন বলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও আগেই তাদের প্রার্থী আহসান হাবীবকে এই আসনের জন্য চুড়ান্ত করেছেন। সে লক্ষ্যে প্রচার শুরু করছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। তবে প্রচার-প্রচারনা ও জনমতে এগিয়ে আছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেন্দ্রীয়ঘোষিত সব কর্মসুচি সুলতান সালাউদ্দীন টুকু সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন সুলতান সালাউদ্দীন টুকু। ২০১৭ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাধারন সম্পাদক এবং ২০২২ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। গত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রায় ৪৫০টি মামলা হয়েছিল সুলতান সালাউদ্দীন টুকুর নামে। শাহাবাগ থানা, রমনা থানা, পল্টন থানা, মতিঝিল থানা, শাজাহানপুর থানা, মিরপুর থানা, তেজগাঁও থানা এবং ধানমন্ডি থানাসহ মামলা গুলোর বেশীরভাগই ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও তার টাঙ্গাইলের বিভিন্ন থানাতেও রয়েছে কয়েকটি মামলা। জেলেও খেটেছেন মাসের পর মাস। হামলা-মামলা এবং জেলখানায় যাওয়ার পরেও রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি বরং সামনে থেকে প্রতিটা দলীয় কর্মসূচি ও মিটিং-মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সুলতান সালাউদ্দীন টুকু বলেন, আমি আন্দোলন সংগ্রামে সব সময় মাঠে ছিলাম। দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ,এলাকাবাসীসহ পুরো দেশবাসীও জানে। আমি শতভাগ বিশ্বাসী প্রার্থী হিসেবে দল আমাকেই বেছে নিবে। এ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হাসানুজ্জামিল শাহিন এবং এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ছাত্রজীবন থেকে এ দলের সঙ্গে আছি। আশা করছি দল ত্যাগের বিষয় গুলো বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন দিবে।
এ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আহসান হাবীব বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এ আসনের লোকজন যেন নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং দলমত নির্বিশেষে সবাই যেন সুবিচার পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবো।
Leave a Reply